কীভাবে আয়কর রিটার্ন জমা করতে হবে?

আয়কর আইন, ২০২৩ অনুযায়ী বাংলাদেশে আয়কর রিটার্ন স্বনির্ধারণী (Self-Assessment) পদ্ধতিতে দাখিল করা হয়। অর্থাৎ করদাতা নিজেই তার আয়, ব্যয়, সম্পদ, দায় এবং প্রযোজ্য করের তথ্য সঠিকভাবে পূরণ করে রিটার্ন দাখিল করেন। (National Board of Revenue)

বর্তমানে ব্যক্তি করদাতারা জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR)-এর e-Return সিস্টেমের মাধ্যমে অনলাইনে অথবা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে নির্ধারিত কর অফিসে রিটার্ন দাখিল করতে পারেন। ২০২৫–২০২৬ করবর্ষ থেকে অধিকাংশ স্বাভাবিক ব্যক্তি করদাতার জন্য অনলাইনে e-Return দাখিল বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তবে ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব প্রবীণ করদাতা, শারীরিকভাবে অসমর্থ বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন করদাতা, বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি করদাতা এবং মৃত করদাতার আইনগত প্রতিনিধিরা এই বাধ্যবাধকতার বাইরে থাকলেও ইচ্ছা করলে অনলাইনে রিটার্ন দাখিল করতে পারবেন। (National Board of Revenue)

অনলাইনে (e-Return) রিটার্ন দাখিলের ধাপসমূহ

১. e-Return পোর্টালে নিবন্ধন (Registration)
প্রথমে e-TIN, জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) এবং নিজের নামে বায়োমেট্রিক নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে e-Return সিস্টেমে নিবন্ধন করতে হবে। (National Board of Revenue)

২. সাইন-ইন (Sign In)
নিবন্ধনের পর e-TIN ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে e-Return পোর্টালে প্রবেশ করতে হবে। (National Board of Revenue)

৩. রিটার্ন ফরম পূরণ
ধাপে ধাপে নিম্নোক্ত তথ্য প্রদান করতে হবে—

  • করবর্ষ (Assessment Year) ও আয়বর্ষ (Income Year)

  • আয়ের খাতসমূহ (চাকরি, ব্যবসা, ভাড়া, কৃষি, মূলধনী লাভ, আর্থিক পরিসম্পদ, অন্যান্য উৎস)

  • করমুক্ত আয় (যদি থাকে)

  • বিনিয়োগ ও কর রেয়াতের তথ্য

  • সম্পদ ও দায় (IT-10B)

  • পরিশোধিত কর ও উৎসে কর্তিত কর (TDS) সংক্রান্ত তথ্য। (National Board of Revenue)

৪. কর পরিশোধ (যদি প্রযোজ্য হয়)
কর পরিশোধযোগ্য হলে এ-চালান (A-Chalan) এর মাধ্যমে নির্ধারিত কোড ব্যবহার করে কর পরিশোধ করতে হবে এবং তার তথ্য e-Return-এ যুক্ত করতে হবে। (National Board of Revenue)

৫. রিটার্ন দাখিল (Submit)
সকল তথ্য যাচাই করে অনলাইনে রিটার্ন সাবমিট করতে হবে। রিটার্ন সফলভাবে জমা হলে সঙ্গে সঙ্গে Acknowledgement Slip, রিটার্ন গ্রহণপত্র এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ট্যাক্স সার্টিফিকেট ডাউনলোড ও প্রিন্ট করা যাবে। (National Board of Revenue)

গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা

  • রিটার্ন পূরণের সময় সকল তথ্য ও প্রমাণপত্র (যেমন বেতন সনদ, ব্যাংক স্টেটমেন্ট, উৎসে কর কর্তনের সনদ, বিনিয়োগের কাগজপত্র ইত্যাদি) হাতে রেখে সঠিকভাবে তথ্য প্রদান করা উচিত।

  • বর্তমানে অনলাইনে রিটার্ন দাখিলের সময় সাধারণভাবে কোনো ডকুমেন্ট আপলোড করতে হয় না। তবে প্রয়োজনে NBR পরবর্তীতে প্রমাণপত্র চেয়ে নিতে পারে, তাই সকল কাগজপত্র সংরক্ষণ করা উচিত। (National Board of Revenue)