আয়কর রিটার্ন জমার প্রয়োজনীয়তা ও নির্ধারিত সময়ে রিটার্ন জমা না দিলে গৃহীত ব্যবস্থা

আয়কর রিটার্ন জমার প্রয়োজনীয়তা

আয়কর রিটার্ন (Income Tax Return) হলো একজন করদাতার নির্দিষ্ট আয়বর্ষে অর্জিত আয়, ব্যয়, সম্পদ, দায়, করযোগ্য আয় এবং পরিশোধিত করের বিবরণ জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR)-এর নিকট নির্ধারিত ফরমে দাখিল করার আইনগত ঘোষণা।

আয়কর আইন, ২০২৩-এর ধারা ১৬৬ অনুযায়ী, নির্ধারিত ব্যক্তি ও সত্তার জন্য আয়কর রিটার্ন দাখিল করা বাধ্যতামূলক। বিশেষ করে নিম্নোক্ত ক্ষেত্রে রিটার্ন জমা দিতে হয়—

  • করদাতার মোট আয় করমুক্ত আয়ের সীমা অতিক্রম করলে।

  • পূর্ববর্তী ৩ (তিন) আয়বর্ষের যেকোনো এক বছরে কর নির্ধারণ হয়ে থাকলে বা করযোগ্য আয় থাকলে।

  • কোম্পানি, ফার্ম, অংশীদার, শেয়ারহোল্ডার পরিচালক, নির্ধারিত সরকারি বা বেসরকারি পদধারী ব্যক্তি এবং আইনে উল্লেখিত অন্যান্য ব্যক্তির ক্ষেত্রে।

  • আয়কর আইন, ২০২৩ বা অন্য কোনো আইনের অধীনে রিটার্ন দাখিলের প্রমাণপত্র দাখিল বাধ্যতামূলক হলে।

বর্তমানে স্বাভাবিক ব্যক্তি করদাতার জন্য প্রতি বছরের ৩০ নভেম্বর (কর দিবস) রিটার্ন দাখিলের নির্ধারিত শেষ তারিখ। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন দাখিল করলে কোনো জরিমানা বা অতিরিক্ত অর্থ প্রদান করতে হয় না। (National Board of Revenue)


নির্ধারিত সময়ে রিটার্ন জমা না দিলে গৃহীত ব্যবস্থা

আয়কর আইন, ২০২৩ অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে রিটার্ন দাখিল না করলে নিম্নোক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হতে পারে—

১. জরিমানা আরোপ

আয়কর আইন, ২০২৩ অনুযায়ী, যেসব ব্যক্তি ধারা ১৬৬, ১৭২, ১৯১, ১৯৩ বা ২১২-এর অধীনে রিটার্ন দাখিল করতে ব্যর্থ হন, তাদের ক্ষেত্রে উপকর কমিশনার—

  • সর্বশেষ নিরূপিত আয়ের ওপর ধার্যকৃত করের ১০% হারে জরিমানা আরোপ করতে পারেন;

  • তবে জরিমানার পরিমাণ ন্যূনতম ১,০০০ টাকা হবে;

  • রিটার্ন দাখিলে বিলম্ব অব্যাহত থাকলে প্রতিদিন ৫০ টাকা হারে অতিরিক্ত জরিমানা আরোপ করা যেতে পারে। (National Board of Revenue)

২. বিলম্ব সুদ প্রদান

যেসব ক্ষেত্রে রিটার্ন দাখিলের প্রমাণপত্র আইন অনুযায়ী বাধ্যতামূলক, সেখানে নির্ধারিত সময়ে রিটার্ন দাখিল না করলে প্রযোজ্য হারে বিলম্ব সুদ (Late Interest) পরিশোধ করতে হয়। (National Board of Revenue)

৩. কর অব্যাহতির সুবিধা হারানো

নির্ধারিত সময়ে রিটার্ন দাখিল না করলে অনেক ক্ষেত্রে কর অব্যাহতি (Tax Exemption) বা কর-সুবিধাপ্রাপ্ত আয় মোট করযোগ্য আয়ের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নিয়মিত হারে কর নির্ধারণ করা হতে পারে। (National Board of Revenue)

৪. আইনগত ও প্রশাসনিক জটিলতা

রিটার্ন দাখিল না করলে বিভিন্ন সরকারি ও আর্থিক সেবা গ্রহণে সমস্যা হতে পারে, বিশেষ করে যেসব ক্ষেত্রে রিটার্ন দাখিলের প্রমাণপত্র আইন অনুযায়ী বাধ্যতামূলক। এছাড়া প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে NBR আইন অনুযায়ী পরবর্তী প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে।

উপসংহার

আয়কর রিটার্ন দাখিল করা শুধু একটি আইনগত বাধ্যবাধকতা নয়, বরং একজন দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে রাষ্ট্রের প্রতি কর্তব্য পালনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই আয়কর আইন, ২০২৩ অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সঠিক তথ্যসহ রিটার্ন দাখিল করলে জরিমানা, বিলম্ব সুদ এবং অন্যান্য আইনগত জটিলতা এড়ানো সম্ভব। (National Board of Revenue)