বাংলাদেশে জমি, ফ্ল্যাট, প্লট বা বাণিজ্যিক স্পেস কেনাবেচা এবং দলিল রেজিস্ট্রেশনের সময় সরকারি ফি’র পাশাপাশি সবচেয়ে বড় আর্থিক অংশটি হলো আয়কর আইন অনুযায়ী প্রদেয় 'উৎসে কর' বা গেইন ট্যাক্স (TDS under Section 125)। পূর্বে সম্পত্তির ক্ষেত্রে গড়পড়তা হারে কর দেওয়া গেলেও বর্তমান আয়কর আইন ও এনবিআরের সর্বশেষ পরিপত্র অনুযায়ী এলাকা, কাঠাপ্রতি মূল্য এবং বাণিজ্যিক গুরুত্ব অনুসারে এই করের হারে সুনির্দিষ্ট পরিবর্তন আনা হয়েছে।
স্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে বিক্রেতার ওপর অর্জিত মূলধনী আয়ের বিপরীতে এই কর কাটা হয় এবং ক্রেতাকে রেজিস্ট্রেশনের সময় অবশ্যই রিটার্ন দাখিলের প্রমাণপত্র (PSR) দাখিল করতে হয়।
১. এলাকাভিত্তিক জমি ও প্লট রেজিস্ট্রেশনে উৎসে কর (গেইন ট্যাক্স): জমির অবস্থান ও গুরুত্ব বিবেচনা করে কাঠাপ্রতি বা দলিলের মোট মূল্যের ওপর নির্দিষ্ট হারে কর ধার্য করা হয় (যেটি বেশি প্রযোজ্য): • গুলশান, বনানী, বারিধারা, মতিঝিল ও দিলকুশা এলাকা: প্রতি কাঠা জমিতে এলাকাভিত্তিক সর্বোচ্চ নির্ধারিত সংবিধিবদ্ধ কর অথবা মোট বিক্রয়মূল্যের ৮% (যা বেশি হয়)। • ধানমন্ডি, লালমাটিয়া, উত্তরা, কারওয়ান বাজার ও চট্টগ্রাম আগ্রাবাদ এলাকা: প্রতি কাঠা জমিতে নির্ধারিত মধ্যম ক্যাটাগরির কর অথবা মোট মূল্যের ৮%। • অন্যান্য সিটি কর্পোরেশন ও বিভাগীয় প্রধান শহর: দলিল মূল্যের ওপর নির্দিষ্ট হারে (সাধারণত ৬% থেকে ৮%) সংবিধিবদ্ধ উৎসে কর। • পৌরসভা ও জেলা শহর এলাকা: তুলনামূলক কম হারে এলাকাভিত্তিক নির্ধারিত কর (সাধারণত ৪% থেকে ৬%)। • ইউনিয়ন পরিষদ ও গ্রামীণ কৃষি জমি: কৃষিকাজে ব্যবহৃত জমি হস্তান্তরে সর্বনিম্ন নির্ধারিত কর প্রযোজ্য অথবা নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে অব্যাহতি প্রাপ্ত।
২. ফ্ল্যাট ও বাণিজ্যিক স্পেস রেজিস্ট্রেশনে উৎসে কর: আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবনের ক্ষেত্রে প্রতি বর্গফুট (Square Feet) অথবা মোট মূল্যের শতকরা হারে উৎসে কর নির্ধারিত হয়: • অভিজাত আবাসিক এলাকা (গুলশান, বারিধারা, বনানী, ধানমন্ডি ইত্যাদি): প্রতি বর্গফুটে নির্ধারিত সর্বোচ্চ কর হার প্রযোজ্য। • সাধারণ সিটি কর্পোরেশন এলাকা: মধ্যম সারির বর্গফুট কর অথবা ৮% হারে প্রদেয় কর। • বাণিজ্যিক স্পেস বা দোকান: আবাসিক ফ্ল্যাটের তুলনায় বাণিজ্যিক ফ্লোর বা দোকানের ক্ষেত্রে উৎসে করের হার তুলনামূলকভাবে বেশি হয়।
৩. পিএসআর (PSR) ও সম্পদ বিবরণীর আইনি বাধ্যবাধকতা: • ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ের কর কমপ্লায়েন্স: নির্দিষ্ট মূল্যের জমি বা ফ্ল্যাট কেনার দলিল সম্পাদন করতে ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়েরই ই-টিআইএন এবং রিটার্ন দাখিলের প্রমাণপত্র (PSR) সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। • সম্পদ বিবরণীতে প্রদর্শন (IT-10B): ক্রয়কৃত সম্পত্তির সঠিক মূল্য ও ক্রয়ের অর্থের বৈধ উৎস বার্ষিক আয়কর রিটার্নের সম্পদ বিবরণীতে দেখানো বাধ্যতামূলক। অন্যথায় ভবিষ্যতে অডিট নোটিশ ও চড়া জরিমানার মুখে পড়তে হতে পারে।
৪. প্যারাগনের পেশাদার ও সুরক্ষিত রিয়েল এস্টেট ট্যাক্স সাপোর্ট: সম্পত্তি কেনাবেচায় বিপুল অঙ্কের লেনদেন হয়, তাই একটি ছোট আইনি ভুলও বড় আর্থিক ঝুঁকির কারণ হতে পারে। প্যারাগন ইনকাম ট্যাক্স কনসালটেন্সি লিমিটেড নিশ্চিত করে সর্বোচ্চ সুরক্ষা: • সঠিক গেইন ট্যাক্স নির্ধারণ ও সাশ্রয়: জমি ও ফ্ল্যাটের মৌজা, এলাকা ও সরকারি নিয়ম বিশ্লেষণ করে অতিরিক্ত করের বোঝা কমিয়ে সঠিক হিসাব নির্ণয়। • ডোরস্টেপ সার্ভিস (হোম পিকআপ ও ডেলিভারি): জমি বা ফ্ল্যাটের দলিল, বায়া দলিল ও ব্যাংক স্টেটমেন্ট সংগ্রহ করতে আমাদের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিনিধি আপনার বাসা বা অফিসে চলে যান এবং কাজ শেষে প্রত্যয়িত ট্যাক্স নথি পৌঁছে দেন। • আজীবন ফ্রি অডিট ও লিগ্যাল ডিফেন্স: প্যারাগনের তত্ত্বাবধানে প্রস্তুতকৃত রিটার্নে প্রদর্শিত সম্পত্তির বিপরীতে পরবর্তীতে এনবিআর থেকে কোনো নোটিশ বা অনুসন্ধান এলে আমরা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বিশেষজ্ঞ আইনজীবী দ্বারা আইনি জবাব ও ট্রাইব্যুনাল ডিফেন্স প্রদান করি।
চেম্বারের ঠিকানা: স্যুট ডি, ১৪তম তলা, ট্রপিকানা টাওয়ার, ৪৫ তোপখানা রোড, সেগুনবাগিচা, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০। হটলাইন: 01999-953870, 02223-388868 | প্রাথমিক ফাইল মূল্যায়ন সম্পূর্ণ বিনামূল্যে।
এটি আপনার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য কিনা জানতে চান?
সাধারণ ব্যাখ্যা আর আপনার নিজের ফাইল এক জিনিস নয়। আমাদের জিজ্ঞেস করুন।
যোগাযোগ করুন