প্রত্যেক সচেতন নাগরিকের জন্য কর ব্যবস্থার প্রাথমিক নিয়মগুলো জানা অত্যন্ত জরুরি। অনেকেই মনে করেন যেকোনো উপার্জন বা ব্যাংকে টাকা জমা হলেই পুরোটার ওপর কর দিতে হয়। বিষয়টি আসলে তেমন নয়। আয়কর আইন, ২০২৩ অনুযায়ী আয়ের ধরন অনুযায়ী সুনির্দিষ্ট কিছু খাতে করমুক্ত সুবিধা ও ছাড় দেওয়া হয়েছে। আবার কর পরিশোধের পূর্বশর্ত হলো রাষ্ট্রীয় তালিকায় করদাতা হিসেবে নিজের নাম নিবন্ধন বা ই-টিআইএন (e-TIN) গ্রহণ করা।
১. আয়কর নিবন্ধন (e-TIN) কেন প্রথম ধাপ? আয়কর রিটার্ন দাখিলের মূল ভিত্তি হলো ১২ ডিজিটের ইলেকট্রনিক করদাতা শনাক্তকরণ নম্বর বা ই-টিআইএন (e-TIN)। একবার টিআইএন গ্রহণ করলে আপনি রাষ্ট্রীয় নথিতে করদাতা হিসেবে তালিকাভুক্ত হন। বর্তমানে ব্যাংক লোন, ক্রেডিট কার্ড, ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন, গাড়ি রেজিস্ট্রেশন ও জমি কেনাবেচাসহ ৪৩টিরও বেশি সেবা পেতে টিআইএন থাকা এবং নিয়মিত রিটার্ন দাখিলের প্রমাণপত্র (PSR) জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক।
২. আয়কর আইন, ২০২৩ অনুযায়ী আয়ের ৭টি প্রধান খাত: নতুন আয়কর আইন অনুযায়ী কর নির্ধারণের জন্য আয়কে ৭টি প্রধান খাতে বিভক্ত করা হয়েছে:
১) চাকরি হইতে আয় (Income from Employment): চাকরিজীবীদের মূল বেতন, উৎসব ভাতা, বোনাস ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার ওপর এই কর নির্ধারিত হয়। তবে মোট বেতনের এক-তৃতীয়াংশ বা সর্বোচ্চ ৪,৫০,০০০ টাকা পর্যন্ত (যেটি কম) করমুক্ত সুবিধা হিসেবে বাদ দেওয়া হয়।
২) ভাড়া হইতে আয় (Income from Rent): বাড়ি, বাণিজ্যিক স্পেস, দোকান বা অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া থেকে প্রাপ্ত আয়। তবে রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামত বাবদ আবাসিক ভাড়ার ক্ষেত্রে মোট ভাড়ার ২৫% এবং বাণিজ্যিক ভাড়ার ক্ষেত্রে ৩০% সংবিধিবদ্ধ খরচ (Statutory Deduction) হিসেবে আয় থেকে বাদ দেওয়া যায়।
৩) কৃষি হইতে আয় (Income from Agriculture): কৃষিকাজ, শস্য উৎপাদন, মাছ চাষ, পোল্ট্রি বা ডেইরি ফার্ম থেকে অর্জিত আয় এই খাতের অন্তর্ভুক্ত। স্থানীয় উৎপাদন খরচ বাবদ নির্দিষ্ট পরিমাণ ছাড় পাওয়ার বিধান রয়েছে।
৪) ব্যবসা হইতে আয় (Income from Business): যেকোনো বৈধ ব্যবসা, উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান বা পেশাগত সেবা (ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, কনসালটেন্ট) থেকে অর্জিত মুনাফা। বিক্রয় বা সেবা থেকে প্রয়োজনীয় পরিচালন ও অফিস খরচ বাদ দিয়ে নীট করযোগ্য মুনাফা বের করা হয়।
৫) মূলধনী আয় (Capital Gains): জমি, ফ্ল্যাট, স্টক বা অন্যান্য স্থায়ী মূলধনী সম্পত্তি বিক্রির ফলে অর্জিত অতিরিক্ত মুনাফা। মূলধনী সম্পদের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নিয়মে কর নির্ধারিত হয়।
৬) আর্থিক পরিসম্পদ হইতে আয় (Income from Financial Assets): ব্যাংক ডিপোজিট, ডিপিএস (DPS), সরকারি সঞ্চয়পত্র ও শেয়ারবাজারের লভ্যাংশ (Dividend) থেকে প্রাপ্ত মুনাফা। এসব খাতে সাধারণত আগেই উৎসে কর (TDS) কেটে রাখা হয়, যা রিটার্নে সঠিক সমন্বয়ের মাধ্যমে করের ভার কমানো সম্ভব।
৭) অন্যান্য উৎস হইতে আয় (Income from Other Sources): উপরের ৬টি খাতের বাইরে যেকোনো বৈধ উপার্জন, যেমন—পুরস্কার, রয়্যালটি, পরিচালক ফি বা উপহার থেকে পাওয়া আয় এই খাতে অন্তর্ভুক্ত।
৩. সঠিক খাত নির্বাচনের গুরুত্ব ভুল খাতে আয়ের হিসাব দেখালে বা উৎসে কর সঠিকভাবে সমন্বয় না করলে অডিট ও জরিমানার ঝুঁকি থাকে। বিপরীতে, সঠিক খাতে ছাড় ও অনুমোদিত খাতে বিনিয়োগ দেখিয়ে সর্বোচ্চ বৈধ কর রেয়াত (Tax Rebate) পাওয়া সম্ভব।
৪. প্যারাগন ইনকাম ট্যাক্স কনসালটেন্সির প্রিমিয়াম সেবা জটিল আয়কর আইন ও হিসাবের ঝামেলা দূর করতে প্যারাগন নিয়ে এসেছে আধুনিক ও নির্ভরযোগ্য সমাধান: • ডোরস্টেপ সার্ভিস: ব্যস্ত করদাতাদের সুবিধার্থে আমাদের নিজস্ব প্রতিনিধি আপনার বাসা বা অফিস থেকে সরাসরি প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংগ্রহ করেন এবং কাজ শেষে ট্যাক্স সার্টিফিকেট ও রিসিট পেপারস পৌঁছে দেন। • নির্ভুল অনলাইন ফাইলিং: ঘরে বসেই অনলাইনে দ্রুততম সময়ে নির্ভুল ই-রিটার্ন প্রস্তুত ও পিএসআর (PSR) সনদ নিশ্চিতকরণ। • আজীবন ফ্রি অডিট ও লিগ্যাল ডিফেন্স: আমাদের তত্ত্বাবধানে প্রস্তুত ও জমাকৃত ফাইলের ক্ষেত্রে পরবর্তীতে এনবিআর থেকে কোনো নোটিশ বা অডিট এলে আমরা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে আইনি প্রতিরক্ষা প্রদান করি।
চেম্বারের ঠিকানা: স্যুট ডি, ১৪তম তলা, ট্রপিকানা টাওয়ার, ৪৫ তোপখানা রোড, সেগুনবাগিচা, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০। হটলাইন: 01999-953870, 02223-388868 | প্রাথমিক ফাইল মূল্যায়ন সম্পূর্ণ বিনামূল্যে।
এটি আপনার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য কিনা জানতে চান?
সাধারণ ব্যাখ্যা আর আপনার নিজের ফাইল এক জিনিস নয়। আমাদের জিজ্ঞেস করুন।
যোগাযোগ করুন