প্রত্যেক সচেতন করদাতার মূল লক্ষ্য থাকে আইনগত কাঠামোর ভেতরে থেকে কীভাবে প্রদেয় করের পরিমাণ যৌক্তিকভাবে কমিয়ে আনা যায়। আয়কর আইন, ২০২৩ অনুযায়ী কর ফাঁকি দেওয়া যেমন শাস্তিযোগ্য অপরাধ, তেমনি সরকার অনুমোদিত খাতে সঞ্চয় বা বিনিয়োগ করে "কর রেয়াত" (Tax Rebate) গ্রহণ করা করদাতার একটি বৈধ সংবিধিবদ্ধ অধিকার।
অনেকেই মনে করেন বিনিয়োগ করলেই হয়তো পুরো টাকাই কর থেকে বাদ যাবে। বাস্তবে নিয়মটি হলো, অনুমোদিত খাতে বিনিয়োগ করলে নির্ধারিত শতকরা হারে কর রেয়াত পাওয়া যায়, যা আপনার মোট প্রদেয় কর থেকে সরাসরি বাদ দিয়ে নীট ট্যাক্স গণনা করা হয়।
১. যেসব খাতে বিনিয়োগ করলে কর রেয়াত পাওয়া যায়: • অনুমোদিত ডিপিএস (DPS): তফসিলি ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিচালিত ডিপিএস-এ বাৎসরিক সর্বোচ্চ ১,২০,০০০ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ। • জীবন বীমার প্রিমিয়াম (Life Insurance): করদাতা, স্বামী/স্ত্রী বা সন্তানের জীবন বীমার প্রিমিয়াম (বীমা মূল্যের সর্বোচ্চ ১০% পর্যন্ত)। • তালিকাভুক্ত শেয়ারবাজার ও সিকিউরিটিজ: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ার, স্টক, ট্রেজারি বন্ড বা অনুমোদিত মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ। • সরকার অনুমোদিত কল্যাণ তহবিল ও প্রভিডেন্ট ফান্ড: অনুমোদিত সুপারঅ্যানুয়েশন ফান্ড, জিপিএফ (GPF) বা ভবিষ্যৎ তহবিলে নিজস্ব চাঁদা। • জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR) অনুমোদিত দাতব্য সংস্থায় অনুদান: সরকারি যাকাত তহবিল, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর বা এনবিআর নির্দেশিত বিশেষ দাতব্য প্রতিষ্ঠানে প্রদেয় অনুদান।
২. কর রেয়াত গণনার সংবিধিবদ্ধ নিয়ম: একজন করদাতা তাঁর মোট করযোগ্য আয়ের ৩% অথবা মোট অনুমোদিত বিনিয়োগের ১৫% অথবা সর্বোচ্চ ১০,০০,০০০ টাকা—এই তিনটির মধ্যে যেটি সবচেয়ে কম, সেই পরিমাণ অর্থ কর রেয়াত হিসেবে তাঁর মূল কর থেকে বাদ পাবেন।
সহজ উদাহরণ: যদি কোনো করদাতার মোট প্রদেয় কর আসে ৫০,০০০ টাকা এবং বিনিয়োগের বিপরীতে তাঁর প্রাপ্য কর রেয়াত হিসাব করে পাওয়া যায় ১৫,০০০ টাকা, তবে তাঁকে ট্যাক্স বাবদ পরিশোধ করতে হবে মাত্র (৫০,০০০ - ১৫,০০০) = ৩৫,০০০ টাকা।
৩. সময়মতো রিটার্ন না দিলে রেয়াত বাতিল: মনে রাখা জরুরি, নির্ধারিত কর দিবসের (Tax Day) পর রিটার্ন দাখিল করলে অনেক ক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী বিনিয়োগজনিত এই রেয়াত সুবিধা বাতিল বা সীমিত হতে পারে। ফলে সঠিক সময়ে সঠিক ব্যাংকিং প্রমাণাদিসহ ফাইল জমা দেওয়া আবশ্যক।
৪. প্যারাগনের স্মার্ট ট্যাক্স প্ল্যানিং ও ডোরস্টেপ সেবা: আপনার বিনিয়োগের সঠিক হিসাব ও সর্বোচ্চ রিবেট নিশ্চিত করতে প্যারাগন ইনকাম ট্যাক্স কনসালটেন্সি লিমিটেড দিচ্ছে বিশেষায়িত সেবা: • সর্বোচ্চ কর সাশ্রয়ী প্ল্যানিং: আমাদের অভিজ্ঞ আয়কর আইনজীবীরা আপনার আয়ের বিপরীতে কোন কোন খাতে কত টাকা বিনিয়োগ করলে সর্বোচ্চ ট্যাক্স রিবেট পাওয়া যাবে, তার নিখুঁত পরিকল্পনা করে দেন। • ডোরস্টেপ সার্ভিস (হোম পিকআপ ও ডেলিভারি): ব্যাংকের স্টেটমেন্ট, ডিপিএস স্লিপ বা ইন্স্যুরেন্সের কাগজ সংগ্রহ করতে আমাদের অফিসিয়াল প্রতিনিধি আপনার বাসা বা অফিসে চলে যাবেন এবং কাজ শেষে প্রত্যয়িত রিসিট ফাইল আপনার হাতে পৌঁছে দেবেন। • আজীবন ফ্রি অডিট ও লিগ্যাল ডিফেন্স: প্যারাগনের মাধ্যমে ফাইলিংকৃত রিটার্নের ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে ট্যাক্স অফিস থেকে কোনো অডিট বা নোটিশ ইস্যু হলে আমরা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে অভিজ্ঞ আইনজীবীর মাধ্যমে লিগ্যাল জবাব তৈরি ও ট্রাইব্যুনাল ডিফেন্স প্রদান করি।
চেম্বারের ঠিকানা: স্যুট ডি, ১৪তম তলা, ট্রপিকানা টাওয়ার, ৪৫ তোপখানা রোড, সেগুনবাগিচা, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০। হটলাইন: 01999-953870, 02223-388868 | প্রাথমিক ফাইল মূল্যায়ন সম্পূর্ণ বিনামূল্যে।
এটি আপনার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য কিনা জানতে চান?
সাধারণ ব্যাখ্যা আর আপনার নিজের ফাইল এক জিনিস নয়। আমাদের জিজ্ঞেস করুন।
যোগাযোগ করুন